প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১,৩০৩ জন শিশু। এই নিয়ে গত দুই মাসে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫১ জনে।
শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
গত দুই মাসের তথ্যে দেখা যাচ্ছে যে, সংক্রমণের হার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাড়ছে:
মোট মৃত্যু: ৪৫১ জন (যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন)।
সন্দেহজনক হামরোগী: গত ২৪ ঘণ্টায় ১,১৯২ জনসহ মোট ৫৫,৬১১ জন।
নিশ্চিত হামরোগী: গত ২৪ ঘণ্টায় ১১১ জনসহ মোট ৭,৪১৬ জন।
হাসপাতালে ভর্তি: মোট ৪০,১৭৬ জন (সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬,০৫৫ জন)।
সন্দেহজনক মৃত্যু: গত দুই মাসে মোট ৩৭৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আগের তুলনায় অনেক বেশি, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে।
হামের এই সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব এবং শিশু মৃত্যুর মিছিল ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য সংগ্রামের এক বিয়োগান্তক অধ্যায়কে মনে করিয়ে দেয়।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও বসন্ত-হামের প্রকোপ (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে বাংলা অঞ্চলে হাম ও বসন্ত (Smallpox) ছিল নিয়মিত মহামারী। তখন গ্রামীণ জনপদে কোনো আধুনিক হাসপাতাল বা টিকাদান ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে। ১৯০০ সালের সেই অন্ধকার সময়ে হাজার হাজার শিশু সঠিক চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাত।
টিকাদান কর্মসূচির সফলতা (১৯৭১-২০২০): স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ টিকাদান কর্মসূচিতে (EPI) অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে। হামের টিকা নিয়মিত হওয়ার পর এক সময় শিশু মৃত্যুর হার অনেক কমে এসেছিল। ১৯০০ সালের সেই মৃত্যুপুরী থেকে বাংলাদেশ একটি নিরাপদ স্বাস্থ্য কাঠামোর দিকে এগিয়ে গিয়েছিল।
২০২৪-এর বিপ্লব ও ২০২৬-এর চ্যালেঞ্জ: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যখাতে সংস্কারের অনেক উদ্যোগ নেওয়া হলেও, টিকাদান কর্মসূচিতে সাময়িক স্থবিরতা বা ভাইরাসের নতুন কোনো রূপ ২০২৬ সালের এই সংকটের কারণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই কুসংস্কারাচ্ছন্ন আমল থেকে ২০২৬ সালের এই অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরির যুগে এসেও ৪৫১ জন শিশুর প্রাণহানি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই মৃত্যু মিছিল প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের মে মাসে আমরা এক বিশাল স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি।
ইতিহাস সাক্ষী, কোনো সংক্রামক ব্যাধিকে অবহেলা করলে তা জাতীয় দুর্যোগে রূপ নেয়। ১৯০০ সালের সেই পরাধীন আমলের অব্যবস্থাপনা থেকে ২০২৬ সালের এই স্বাধীন বাংলাদেশে এখন তথ্যপ্রবাহ অনেক দ্রুত হলেও, মাঠপর্যায়ে টিকার কাভারেজ নিশ্চিত করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এখন সময়ের দাবি। প্রতিদিন ১২ জন শিশুর মৃত্যু কেবল সংখ্যা নয়, বরং এটি ১২টি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ। ২০২৬ সালের এই মে মাসের তীব্র দাবদাহের মাঝে হামের এই প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে দেশব্যাপী জরুরিভিত্তিতে গণ-টিকাদান কর্মসূচি জোরালো করা প্রয়োজন।
সূত্র: ১. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে প্রেরিত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (১৫ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও টিকাদান কর্মসূচির বিবর্তন (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |